Sunday, 26 Jun 2022 | English

প্রস্রাবের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ঔষধ

প্রস্রাবের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ঔষধ

আজকে আমরা প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ঔষধ যেমন প্রস্রাব ধারনে অক্ষমতা বা অসাড়ে প্রস্রাব, ঘন ঘন প্রস্রাব, বিছানায় প্রস্রাব ইত্যাদি সর্ম্পকে আলোচনা।  

Table of Contents

[hide][show]


লক্ষন মিলে গেলে প্রাপ্ত বয়স্করাও বাচ্চাদের ও বাচ্চারাও প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্বাচিত ঔষধ সেবন করতে পারবে, তাই পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন।

ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা

ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা কি

ঘন ঘন প্রস্রাব হল স্বাভাবিকের চেয়ে অতি মাত্রায় প্রস্রাবের চাপ বা প্রস্রাব করা। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ দিনে ৬-৭ বার পর্যন্ত প্রস্রাব করতে পারে  এবং গড়ে ১.৫ লিটার মূত্র ত্যাগ করে।  খুব বেশি পানি খেলে ৮/৯ বার পর্যন্ত হতে পারে৷ তবে এর বেশি হলে এটাকে ঘন ঘন প্রস্রাব সমস্যা বলা যায়৷ সোজা কথা কেউ ২ লিটার পানি পান করে ২৪ ঘন্টায় ৭/৮  বারের বেশি প্রস্রাব করলে তার শারিরীক কোন সমস্যা আছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে । বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা দুর্বল মূত্রস্থলীর লক্ষণ হতে পারে।

ঘন ঘন প্রস্রাব ব্যাপারটা বিরক্তির কারনও বটে, এর ফলে কাজ বাধাগ্রস্থ হয়, রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তাই আজকে আমরা আলোচনা করব ঘন ঘন প্রস্রাব যেমন রাতে বা দিনে ঘন ঘন প্রস্রাবের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ঔষধ সর্ম্পকে।

ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ঔষধ

Lycopodium (লাইকোপেডিয়াম): রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় লাইকোপেডিয়াম (Lycopodium) বেশ উপকারী। রোগী প্রস্রাবের জন্য প্রায়শই রাতে ঘুম থেকে ওঠে। প্রস্রাব অল্প পরিমাণে বা বেশি পরিমাণে হতে পারে তবে রাতে বৃদ্ধি। ঘন ঘন প্রস্রাবের সাথে আরো একটি বৈশিষ্ট্য হল পিঠ ব্যথা যা প্রস্রাবের আগে আরও বৃদ্ধি পায়, মিষ্টি , গরম পানীয এবং খাবারের আকাঙ্ক্ষা, পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো গ্যাস্ট্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি ঘন ঘন প্রস্রাবের সাথে দেখা যায়, এরা জানালা খোলা রেখে ঘুমাতে পছন্দ করে

Helonias 200 (হ্যালোনিয়াস): বয়স্কদের ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় খুব ভাল কাজ করে।

Iodium 200 (আয়োডিয়াম): ডায়াবেটিস রোগীর সবসময় ক্ষুধা ও ঘন ঘন প্রস্রাব সমস্যায় খুব ভাল কাজ করে। এ ধরনের রোগী প্রচুর ক্ষুদা এবং খায়ও প্রচুর কিন্তু শরীর দিন দিন শুকিয়ে যায়, সামান্য পরিশ্রমেই ঘাম হয় ।

Natrum Sulph 3x (নেট্রাম সাল্ফ): খুব দুর্বল ও পানি পিপাসা বেশি থাকলে খুব ভাল কাজ করে।

Natrum Phos 3x (নেট্রাম ফস) : শিশু-বাচ্চাদের ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় এই হোমিও ঔষধটি খুব ভাল কাজ করে। এছাড়াও ক্রিমিতে আক্রান্ত বাচ্চারা বিছানায় প্রস্রাব করলে নেট্রাম ফস – 3X; ১/৪  বড়ি দিনে তিন বার বয়স অনুসারে সেব্য ।

Insolium 30 (ইনসুলিন): ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্রাবে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে আস্তে আস্তে সুস্থ্য করে তোলে।

Rhus Aromatic Q - অধিক পরিমানে প্রস্রাব, বিছানায় প্রস্রাব করা, প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখতে না পারা,অনবরত ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ।

(কস্টিকাম) Causticum 200: ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের বেগ ধারণে অক্ষমতা ও হাটা চলা করতে করতে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব নিঃসরন হলে (কস্টিকাম) Causticum 200 খুব ভাল কাজ করে। শীতকালে অনিচ্ছায় ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং গ্রীষ্মে ভাল হয় তখন কস্টিকাম 200 (Causticum) দরকারী। প্রস্রাবের সাথে বিভিন্ন ভয় এবং আশঙ্কা থাকে, বিশেষত আশঙ্কা করে যে তাদের সাথে কিছু খারাপ হবে। অন্ধকারে বিছানায় যাওয়ার ভয় তাদের। কাশি বা হাঁচি বা হাসতে হাসতেও এই লোকেরা তাদের প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে।

Acid Phos (এসিড ফস): জীর্ণ শীর্ণ দুর্বল হয়ে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব দিন অপেক্ষা রাতে বেশি ও পানি পিপাসা বেশি থাকলে খুব ভাল কাজ করে।​

Nux Vom (নাক্স ভোম):  কেবল অল্প পরিমাণে প্রস্রাব, মূত্রাশয়ে জ্বলন্ত বা ছেড়ে ছেড়ে ব্যথা অনুভূত হতে পারে, প্রস্রাবের সময় মূত্রনালীতে চুলকানি অনুভূতি হয়। ব্যক্তি খুব খিটখিটে, অধৈর্য এবং ঠাণ্ডা অনুভব করে। উপসর্গ গরম পানিতে স্নান বা অন্যান্য ধরনের উষ্ণতা দ্বারা উপশম হতে পারে। গরমে উপশম।

এপিস মেল (Apis Mel): প্রস্রাব করার সময় মূত্রনালীর মধ্যে অত্যন্ত জ্বালা ও হুলফোটানো ব্যথা। ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ; প্রস্রাবের বেগ আসলে রোগী এক মিনিটও তা ধারন করতে পারেনা, জ্বালা যন্ত্রনার সাথে রক্তস্রাব।

Thuja (থুজা): যখন মূত্রথলি বড় হয় এবং মূত্রাশয়ের ঘাড়ে কাটা বা জ্বলন্ত ব্যথা অনুভূত হওয়ার সাথে সাথে ব্যক্তির ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ দেয় , তখন এই প্রতিকারটি শান্তি বয়ে আনতে পারে। কাঁটাযুক্ত বা ছেড়ে ছেড়ে প্রস্রাবের প্রবাহের জন্যও Thuja (থুজা)’র প্রয়োজন হয়।

Cantharis (ক্যান্থারিস): প্রস্রাবের প্রচুর চাপ, প্রস্রাবের আগে কাটার মত প্রচন্ড ব্যাথা, প্রস্রাবের সময় ও পরেও ব্যাথা হয়। ফোটা ফোটা প্রস্রাব, প্রস্রাব শেষ করার পরও মনে হয় যে প্রস্রাব শেষ হয় নি, মূত্রাশয় খালি হয়নি, প্রস্রাবের প্রচন্ড চাপ অনুভব করে।

Sarsaparilla (সারসাপারিলা): রোগের উপসর্গগুলি অস্পষ্ট হলে বা অন্যান্য ঔষধে কাজ না হলে এই ঔষধটি সাহায্য করে। এই ঔষধের উপসর্গগুলোর অন্যতম উপসর্গ, প্রস্রাবের শেষে জ্বলন্ত ব্যাথার সাথে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়।  ব্যক্তি যখন দাঁড়িয়ে থাকে তখন প্রস্রাব হয়, তবে বসার সময় কেবল ফোটা ফোটা আসছে আসছে আসছে করে প্রস্রাব হয় বা ফোটা ফোটা আসছে আসছে অনুভূত হয়।

রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ঔষধ

ঘন ঘন প্রস্রাব করা রাতের সময় সবচেয়ে বিরক্তিকর কারণ এটি ঘুমকে বিঘ্নিত করে। রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য লাইকোপেডিয়াম (Lycopodium), মার্ক সল (Merc Sol) এবং ক্রিয়োজোট (Kreosote) উত্তম ওষুধ।

 

বিছানায় প্রস্রাবের সমস্যা

বিছানায় প্রস্রাবের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

ক্রিয়োজোট (Kreosote):  যেসব রোগী মনে করে যে সে বাহিরে প্রস্রাব করছে কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেথে যে নিজের বিছানায়ই প্রস্রাব করেছে, সহজে জাগানো যায় না, বিছানায় প্রস্রাব করার পরেও ঘুম থেকে জাগ্রত হয় না, প্রস্রাবে ভিজেই ঘুমাতে থাকে।

দিনই জোর করে হলেও প্রস্রাব করে শয়ন করার পরও শয়নের পর পরই প্রস্রাব করে ফেলে। বিছানায় প্রস্রাব করে অপরাধ বোধ করে এরূপ লক্ষনের রোগীর জন্য ক্রিয়োজোট (Kreosote) প্রয়োজন । 

বিছানায় প্রস্রাব করার পরেও রোগী ঘুম থেকে জেগে না উঠলে , ৩০/২০০ শক্তির ঔষধ দিনে দুই মাত্রা সেব্য। রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য ক্রিয়োজোট (Kreosote) উত্তম কাজ করে।

রোগীর প্রস্রাব করার জন্য হঠাৎ তাড়াহুড়ো হয় যে তাদের বাথরুমে যাওয়ার জন্য বিছানা থেকে নামার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই, এই লোকেরা রাতের প্রথম অংশে তাদের বিছানা ভেজাতে থাকে, কখনও কখনও তাদের স্বপ্ন হবে যে তারা প্রস্রাব করছে এসব লক্ষনে ক্রিয়োজোট 200

রেডিয়াম ব্রোম (Radium Brom): শয্যা মূত্ররােগে প্রায় ক্ষেত্রে একমাত্রা রেডিয়াম ব্রোম (Radium Brom) ১০এম এবং রােগ বহু বছরের পুরনাে হলে ৫০ এম বা সি. এম ফলপ্রদ। ~ডাঃ কে. ডি. চৌধুরী

কষ্টিকাম (Causticum): ঘুমের মধ্য অসাড়ে প্রস্রাব করে, কিছুই জানতে পারে না। খুব নম্র। তিরঙ্কার করলে কেঁদে ফেলে। হাচি কাশির সময় ২/১ ফোটা প্রস্রাব বের হওয়ার অভ্যাসে কষ্টিকাম (Causticum২০০, ১০০০।

এসিড বেন্জোয়িক (Benzoic Acid): বিছানায় প্রস্রাব করে এবং রোগীর প্রস্রাবে ঘোড়ার প্রস্রাবের মত দুর্ঘন্ধ থাকে তার জন্য এই ঔষধটি অতি প্রয়োজন। ৩০ ও ২০০ শক্তির ঔষধ দিনে দুই মাত্রা সেব্য।

রাস এরোমেটিক (Rhus Aromatic Q ): অধিক পরিমানে প্রস্রাব, বিছানায় প্রস্রাব করা, প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখতে না পারা,অনবরত ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ।

টিউবার বােভি (Tuberculinum Bovinum) - কোন ঔষধে বিছানায় প্রস্রাব করা বন্ধ না হলে এবং বংশে ক্ষয় রােগের ইতিহাস থাকলে টিউবার বােভি (Tuberculinum Bovinum) ১০০০ হতে তদুর্ধ শক্তি প্রয়ােজ্য।

শিশু বা বাচ্চাদের বিছানায় প্রস্রাবের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

রাস-এরোমেটিক (Rhus – Aromatica): শিশুদের বিছানায় প্রস্রাবে রাস-এরোমেটিক (Rhus – Aromatica), দিনে ৩ বার ৫ ফোটা করে অব্যর্থ ফল দেয়।

সিনা (Cina) : ক্রিমিতে আক্রান্ত শিশুরা যদি ঘুমের ঘোরে বিছানায় অসারে প্রস্রাব করে এবং সর্বদা ফোটা ফোটা প্রস্রাব করে তাদের জন্য সিনা দেয়া প্রয়োজন।২০০ ও ওয়ান এম শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য। শিশু মাঝে মাঝেই নাক চুলকায় বা বালিশে নাক ঘষে। ঘুমের মধ্য দাঁত কড়কড় করে। অত্যধিক আবদারপরায়ণ। অনবরত এটি ওটি চায়। দিলেও সন্তুষ্ট হয় না। আবার আর কিছু খায়। অত্যধিক ক্ষুধা ও খায়। জিহ্বা পরিষ্কার এমন শিশু বিছানায় প্রস্রাব করলে সিনা (Cina) ২০০, ১০০০ প্রয়ােজ্য।

কষ্টিকাম (Causticum) : শিশু প্রথম ঘুমেই বিছানায় প্রস্রাব করে কষ্টিকাম তাদের পরম বন্ধু। শীতকালে বিছানায় প্রস্রাবের প্রবনতা বেশি হলে কষ্টিকাম উত্তম ঔষধ। বিছানায় প্র্রস্রাবের চিকিৎসার কথা মনে হলেই এই ঔষধের নাম স্মরন করা হয়। ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ দিনে দুই মাত্রা সেবন করতে হয়। 

ঘুমের মধ্য অসাড়ে প্রস্রাব করে, কিছুই জানতে পারে না। শিশু / বাচ্চা খুব নম্র। তিরঙ্কার করলে কেঁদে ফেলে। হাচি কাশির সময় ২/১ ফোটা প্রস্রাব বের হওয়ার অভ্যাসে কষ্টিকাম (Causticum২০০, ১০০০

ক্রিয়োজোট (Kreosote):  যেসব বাচ্চারা মনে করে যে সে বাহিরে প্রস্রাব করছে কিন্তু ঘুম থেকে উঠে দেথে যে নিজের বিছানায়ই প্রস্রাব করেছে, সহজে জাগানো যায় না, বিছানায় প্রস্রাব করার পরেও বাচ্চা ঘুম থেকে জাগ্রত হয় না, প্রস্রাবে ভিজেই ঘুমাতে থাকে। 

দিনই জোর করে হলেও প্রস্রাব করিয়ে শোয়ানো তবুও শয়নের পর পরই প্রস্রাব করে ফেলে। বিছানায় প্রস্রাব করে অপরাধ বোধ করে, শিশু ভয়ানক শীতকাতর এরূপ লক্ষনের রোগীর জন্য ক্রিয়োজোট (Kreosote) প্রয়োজন । ৩০/২০০ শক্তির ঔষধ দিনে দুই মাত্রা সেব্য।

সিপিয়া (Sepia) : যে বাচ্চা প্রথম ঘুমেই বিছানায় প্রস্রাব করে এবং প্রস্রাবে দুর্ঘন্ধ থাকে তার জন্য সিপিয়া পরম বন্ধু। বিশেষ করে মেয়েদের বিছানায় প্রস্রাবের সমস্যায়  সিপিয়া (Sepia) ভালো কাজ করে। ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ দিনে দুই মাত্রা সেব্য।

সালফা র (Sulphur) : সোরার প্রবনতা বা সুপ্ত সোরার বহিঃপ্রকাশ, গোসলে অনিহা, মিস্টি ও মশলা জাতীয় খাবার পছন্দ ,  যে সকল বাচ্চারা অতিরিক্ত দুষ্ট, বদমেজাজি এবং রাতের দ্বিতীয়ার্ধে বিছানায় প্রস্রাব করেন তাদের ক্ষেত্রে সালফা র (Sulphur)     কার্যকরী।

মেডোরিনাম (Medorrhinum): সাইকোসিস ধাতুর রোগী এবং সুনির্বাচিত ঔষধ ব্যর্থ হলে মেডোরিনাম কার্যকরী, মেডোরিনামের শিশুরা দিনের বেলায় ঘুমালেও প্রস্রাব করে দেয়। রাত্রে বিছানায় প্রস্রাব করে। প্রস্রাব খুব দুর্গন্ধযুক্ত। রক্তশুন্য, শুষ্ক, শীর্ণ দূর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন, খর্বাকৃতি ও স্থূলবুদ্ধি বিশিষ্ট শিশু। সে বাতাস চায় কিন্তু সে ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না।

গনােরিয়া চাপা পড়া পিতামাতার সন্তানদের বিছানায় প্রস্রাব করার মেডোরিনাম (Medorrhinum) উৎকৃষ্ট ঔষধ । শিশুর স্মরণশক্তি একবারেই কম। পড়ে মনে রাখতে পারে না। অংক মােটেই বুঝে না। প্রস্রাবে খুব দুর্গন্ধ। ক্ষুধা ও পিপাসা বেশী। দেহ শীর্ণ ও বামন।

সিফিলিনাম (Syphilinum) : সিফিলিটিক মায়াজমের শিশুরা রাত্রে ঘুমানোর সাথে সাথেই প্রস্রাব করে দেয়, এবং রাত্রের মধ্যে কয়েকবার বিছানায় প্রস্রাব করে, মুখে লালা জমার প্রবনতা এবং মুখে দুর্গন্ধ হয়।

স্যানিকিউলা (Sanicula) :  দিনের বেলায় যে সমস্ত শিশু বাচ্চারা কাপড় খুলতে খুলতে বা বিছানা হতে নামতে নামতেই প্রস্রাব করে ফেলে সেই সমস্ত শিশুদের রাত্রে বিছানায় প্রস্রাব করার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য্য। প্রস্রাব করা স্থানে লালাভ দাগ পড়ে। তার মলের এক অদ্ভুত লক্ষণ এই যে, মল তার চার কোনা বিশিষ্ট হয়। শিশুর ঘাড়ে অত্যধিক ঘাম হয় এরকম লক্ষন ও বৈশিষ্ট্যে স্যানিকিউলা (Sanicula) ৩০, ২০০, ১০০০

সার্সাপেরিলা (Sarsaparilla):  যে সমস্ত শিশু বাচ্চারা জাগ্রত অবস্থায় না দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে পারে না, বসে প্রস্রাব করতে গেলে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব নির্গত হয়, তাদের বিছানায় প্রস্রাব করার ইহা ভাল ঔষধ। জাগ্রত অবস্থার না দাঁড়ালে ভালভাবে প্রস্রাব না হওয়া অথচ শয়ন ও নিদ্রাঘােরে অসাড়ে প্রস্রাব হওয়া এর বিশেষত্ব। প্রস্রাব শেষ হওয়ায় প্রাক্কালে ভয়ানক যাতনা ও বিদ্যুৎ প্রবাহের ন্যায় শরীর ঝাকি দেয়াও এর আর এক বিশেষত্ব। এরূপ লক্ষন  বৈশিষ্ট্যে সার্সাপেরিলা (Sarsaparilla) ৩০, ২০০, ১০০০

অ্যাসিড ফস (Acid Phos) : স্নায়ুতন্ত্রের কারণে মানসিক ও শারীরিক অক্ষমতা (রাতে বিছানায় মূত্রত্যাগ) নিয়ন্ত্রণ করতে উপযোগী।

ইকুইজেটাম (Equisetum) : কোন ঔষধ কাজ না করলে ইকুইজেটাম (Equisetum) ৬ শক্তি দিনে তিন বার সেব্য।

ক্রিমি থাকিলে সিনা (Cina Maritima) ২০০ বা সােমরাজ Q, ৫ ফোটা করিয়া দিনে ৪বার কিছুদিন সেবনীয়। ~ ডাঃ প্রস্রাদ বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্লুমিয়া ওডাে (Blumea Odorata) ২x (ডাঃ কাসিং) দিনে ৩ বার ৩ ফোটা করে। 

খুজা (Thuja Occidentalis) :আচিলযুক্ত বা লাল তিলওয়ালা শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব করা ব্যাধিতে খুজা (Thuja Occidentalis) ২০০, ১০০০

ব্যাসিলিনাম (Bacillinum): শিশু বা বালকদের শয্যামূত্রের ক্ষেত্রে ভালাে ওষুধ ব্যাসিলিনাম (Bacillinum)। ~ ডাঃ ফুবিস্টার (Foubister)

শিশুর বিছানায় প্রস্রাবের সমস্যায় বায়োকেমিক চিকিৎসা

নেট্রাম ফস ( Natrum Phos):   ক্রিমিতে আক্রান্ত শিশুরা বিছানায় প্রস্রাব করলে  নেট্রাম ফস – 3X; ১/৪  বড়ি দিনে তিন বার বয়স অনুসারে সেব্য 

নেট্রাম সালফ ( Natrum Sulph):  শিশুরা বিছানায় প্রস্রাব করলে  নেট্রাম সালফ – 6X; ১/৪  বড়ি দিনে তিন বার বয়স অনুসারে সেব্য 

ক্যালকেরিয়া ফস (Calcarea phos):  রক্ত শুন্য দুর্বল পুষ্টিহীন শিশুর  বিছানায় প্রস্রাব  বন্ধের জন্য ক্যালকেরিয়া ফস- 6x বা  12;  ১ /৪  বড়ি দিনে তিন বার বয়স অনুসারে সেব্য

কেলি ফস (Kali phos):  স্নায়ুবিক দুর্বল শিশুর জন্য কেলি ফস 3x বা 6x , ১ /৪  বড়ি দিনে তিন বার বয়স অনুসারে সেব্য।

 

প্রস্রাব ধারনে অক্ষমতা বা অসাড়ে প্রস্রাব

প্রস্রাব ধারনে অক্ষমতা বা অসাড়ে প্রস্রাব কি

অনিচ্ছাসত্বেও হাঁচি, কাশি বা টয়লেটে পৌছানোর আগেই হঠাৎ প্রস্রাব হয়ে যাওয়া ঠিক অসুখ নয়, এটা হল মূত্রাশয় বা মুত্রনালী সংক্রান্ত রোগের অন্যতম একটি লক্ষণ। পুরুষ-নারী উভয়েরই এই সমস্যা হয় । বিশেষ করে বৃদ্ধবয়সে এই সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই সমস্যা পুরুষদের থেকে নারীদের বেশি হয়। যদিও স্বাস্থ্যের দিক থেকে এটি গুরুতর সমস্যা না হলেও মানসিক ভাবে এটি রোগীদের বিপর্যস্ত করতে পারে।

প্রস্রাব ধারনে অক্ষমতা বা অসাড়ে প্রস্রাবের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ঔষধ

Rhus Aromatic Q - অধিক পরিমানে প্রস্রাব, বিছানায় প্রস্রাব করা, প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখতে না পারা,অনবরত ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব, কোমর বেদনা ও প্রবল পিপাসা, রাক্ষুসে ক্ষুধা বা ক্ষুধা হীনতা

(কস্টিকামCausticum 200: ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবের বেগ ধারণে অক্ষম ও চলিতে ফিরিতে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব নিঃসরণ থাকলে খুব ভাল কাজ করে। শীতকালে অনিচ্ছায় ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং গ্রীষ্মে ভাল হয় তখন কস্টিকাম 200 (Causticum) দরকারী। প্রস্রাবের সাথে বিভিন্ন ভয় এবং আশঙ্কা থাকে, বিশেষত আশঙ্কা করে যে তাদের সাথে কিছু খারাপ হবে। অন্ধকারে বিছানায় যাওয়ার ভয় তাদের। কাশি বা হাঁচি  বা হাসতে হাসতেও এই লোকেরা তাদের প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে।

পেট্রোসেলেনিয়াম (Petroselinum): হঠাৎ প্রস্রাবের অত্যন্ত কষ্টকর বেগ আসে এবং প্রস্রাবের চাপে উঠতে না উঠতেই আপনা আপনিই প্রস্রাব হয়ে যায়, এইটিই পেট্রোসেলেনিয়ামের প্রধান চরিত্রগত লক্ষণ । এমন কি প্রমেহ রোগে কেবল এই লক্ষণেই পেট্রোসেলেনিয়ামের উপযোগী । 

ইকুইসেটাম হাইমেল (Equisetum Hyemale): মূত্রাশয়ের দুর্বলতা। প্রস্রাব ধারন শক্তি থাকে না। বৃদ্ধ নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রযোজ্য ইকুইসেটাম হাইমেল (Equisetum Hyemale)। অবিরত মূত্রবেগ, প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব, পরিস্কার প্রস্রাব, মূত্রত্যাগকালে মূত্রনালীতে তীব্র জ্বালা, কাটার মত ব্যাথা। বৃদ্ধা নারীদের মূত্রাশয়ের পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস), দিবসে ও রাত্রে অসাড়ে প্রস্রাব। এরূপ লক্ষনে ইকুইসেটাম হাইমেল (Equisetum Hyemale)

কষ্টিকাম (Causticum) - ঘুমের মধ্য অসাড়ে প্রস্রাব করে, কিছুই জানতে পারে না। শিশু / বাচ্চা খুব নম্র। তিরঙ্কার করলে কেঁদে ফেলে। হাচি কাশির সময় ২/১ ফোটা প্রস্রাব বের হওয়ার অভ্যাসে কষ্টিকাম (Causticum) ২০০, ১০০০। বিশেষ করে বালক ও বৃদ্ধদের এরূপ সমস্যায় - কষ্টিকাম (Causticum)।ৎ

ন্যাট্রাম কার্ব (Natrum Carb) - যখন তখন প্রস্রাবের বেগ ও প্রচুর প্রস্রাব। প্রস্রাবের সময় জ্বালা। রাত্রে অজ্ঞাতসারে প্রস্রাব হয়ে যাওয়া। প্রস্রাব হরিদ্রা বর্ণ, ঝাঁঝালো ও অম্ল গন্ধযুক্ত।রোগী খোলা বাতাস সহ্য করতে পারে না এবং শারীরিক  বা মানসিক কোনপ্রকার পরিশ্রম করিতে চায় না; জড়স্বভাব। এরূপ লক্ষনে ন্যাট্রাম কার্ব (Natrum Carb)

ওপিয়াম (Opium) - মূত্রথলীর পক্ষাঘাত বা মূত্রথলীর সঙ্কোচক পেশীতে পক্ষাঘাত হয়ে প্রস্রাব বন্ধ, মূত্রাশয়ের অনুভুতি লোপ পায়, মূত্রথলী পূর্ণ থাকে, কিন্তু রোগী তা বুঝতে পারে না, প্রস্রাব জমা হলেও টের পায় না - ওপিয়াম (Opium)

ফেরাম ফস (Ferrum Phos) - মুত্রপথের পথরোধকারী পেশীসমূহের শিথিলতা বশত প্রস্রাব ধারণ করতে অক্ষম। অবিরত মূত্রত্যাগের প্রবৃত্তি। মূত্রনালীর প্রদাহবশত প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়া।  অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বার বার প্রস্রাবের বেগ হতে থাকে। বিশেষ করে দিনের বেলায় অসাড়ে প্রস্রাব। কাশতে গেলে প্রস্রাব ছিটকে বের হয় -ফেরাম ফস (Ferrum Phos) 

আর্নিকা মন্ট (Arnica Mont):  আঘাতের পর জ্ঞান হারায়, রক্ত প্রস্রাব, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় বা অসাড়ে মলমূত্র ত্যাগ করে।  উঁচুস্থান হতে পড়ে গিয়ে আঘাত, বিশেষ করে যদি মাথায় ঝাকুনি / আঘাত লেগে অজ্ঞান হয়ে অসাড়ে মলমূত্র ত্যাগ , অচৈতন্য / অজ্ঞান অবস্থায় অসাড়ে মল-মূত্র ত্যাগ, কথার জবাব দিতে দিতে পুনরায় তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এরূপ লক্ষনে আর্নিকা মন্ট (Arnica Mont)

Gelsemium (জেলসেমিয়াম): - বৃদ্ধ বয়সে অনবরত ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব নির্গমন- Gelsemium (জেলসেমিয়াম) 30 মাত্রা।

রুটা গ্র্যাভি (Ruta Grave) - রোগীর মনে হয় যেন সব সময় প্রস্রাব জমা হয়ে রয়েছে, মূত্রাশয় পরিপূর্ন, প্রস্রাবের বেগ ধারণ করতে পারে না, বেড়াবার সময় অসাড়ে নিঃসরন, নিরন্ত্রর মূত্রবেগ - রুটা গ্র্যাভি (Ruta Grave)

 

প্রস্রাব ধারনে অক্ষমতা বা অসাড়ে প্রস্রাবের সমস্যায় বায়োকেমিক চিকিৎসা ও ঔষধ

ক্যালকেরিয়া ফস (Calcarea phos):  বিরতিহীন প্রস্রাবের ইচ্ছা, মূত্রাশয়ের পেশির দুর্বলতার কারনে হাঁচি-কাশির সাথে প্রস্রাব বের হয়ে পড়ে।

ক্যালি ফস (Kali Phos): ব্লাডারের পক্ষাঘাত জনিত কারনে প্রস্রাব ধারনে অক্ষমতা. প্রস্রাবের বেগ আসিলে বেগধারণে অসামর্থ্য। অধিক পরিমাণে ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে জ্বালা, রক্তস্রাব কিংবা  প্রস্রাবে সাথে রক্ত। ডায়াবেটিক রোগের সাথে অত্যন্ত স্নায়বিক দুর্বলতা, প্রমেহ রোগে ও রক্তস্রাব। এরূপ লক্ষনে ক্যালি ফস (Kali Phos)।

ডাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিয়া (বি,এ)

ডি.এইচ.এম.এস (ঢাকা)


অহনা ভিলা, ধানুয়া কলেজ পাড়া, শিবপুর, নরসিংদী


সিংহশ্রী (বট তলা) চৌরাস্তা, ফালুমাস্টারের বাড়ি, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

মোবাইলঃ ০১৭৩৯-৬৮২৬৯২, অথবা বার্তা পাঠান

(প্রতি শনিবার যোগাযোগ সাপেক্ষে রোগী দেখা হয়)

Share this post
More
Dr. Abdul Hannan Mia
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো।
Comments
?
মাহফুজ
17-05-2022 05:32:40 pm
আমি ঔষধ কিনতে চাই
Y
21-05-2022 04:25:19 pm
আপনার কমেন্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। নির্দিষ্ট লক্ষনের সাথে কোন ঔষধ মিলে গেলে ও ঔষধ নিতে চাইলে আপনার উপজেলা বা জেলার বড় বড় হোমিওপ্যাথিক দোকান গুলোতে খোজ নিতে পারেন, বা নিকটস্থ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আশেপাশের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ বিক্রেতার কাছে পেতে পারেন।
হোমিওপ্যাথিক(35), শিশু রোগ(3), প্রস্রাব(3), চর্মরোগ(3), ডায়াবেটিস(2), পরিচিত রোগ(2), দাঁত(2), উচ্চ রক্তচাপ(2), গ্যাস্ট্রিক(2), স্ত্রীরোগ(2), এলার্জি(2), হোমিওপ্যাথ শিক্ষার্থী(2), হাড় ক্ষয়(2), হাড় ব্যাথা(2), diabetes(1), ভিটামিন(1), হোমিওপ্যাথিক ও প্রাকৃতিক(1), রাসূল (সাঃ) এর বানী(1), ঘুমানোর পূর্বে পাঁচটি আমল(1), ঘুমানোর পূর্বে রাসূল (সাঃ) এর পাঁচটি আমল(1), ইসলাম ধর্ম(1), খেজুর(1), ঔষধি ফল(1), আকস্মিক পীড়া, দূর্ঘটনায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা(1), দূর্ঘটনায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা(1), হৃদরোগ(1), গর্ভবতী(1), প্রাথমিক চিকিৎসা(1), মিথ্যা সন্দেহ(1), পারিবারিক ঝগড়া বা দাম্পত্য কলহ (স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া)(1), গলগন্ড(1), বিছানায় প্রস্রাব(1), ঘন ঘন প্রস্রাবের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ(1), অজ্ঞান(1), ব্রন(1), হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাওয়ার ও সংরক্ষনের নিয়ম(1), প্রাকৃতিক(1), ????(1), বন্ধ্যাত্ব(1), জন্মনিয়ন্ত্রণ / গর্ভনিরোধ(1), ব্যাথা(1), কোমড় / মেরুদন্ড(1), হোমিওপ্যাথি সর্ম্পকে ভ্রান্ত ধারনা, কুসংস্কার ও কিছু প্রশ্নোত্তর(1), বইয়ের তালিকা(1), প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত(1), paralysis(1), হার্ট টনিক(1), বেবী টনিক(1), অস্টিওপোরোসিস(1), পড়ালেখা/পাঠে মনোযোগ(1),